আর্জেন্টিনা ফুটবল খেলোয়াড়রা বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। তাদের খেলার স্টাইল, টেকনিক, জয় করার মানসিকতা এবং আবেগ সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনা মানেই ফুটবলের রোমাঞ্চ। আর্জেন্টিনা খেলোয়াড়রা শুধু ট্রফি জেতার জন্য খেলে না, তারা খেলে দেশের সম্মান ও আবেগ নিয়ে। তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে আর্জেন্টিনা দল ভবিষ্যতেও বিশ্ব ফুটবলে শক্ত অবস্থান ধরে রাখবে। চলুন দেখে আসি আর্জেন্টিনা ফুটবল খেলোয়াড়দের নাম, পজিশন, বয়স, বাজারমূল্য ও জার্সি নাম্বার। চলুন খেলা টাইমের আজকের এই নিবন্ধে জেনে নেয়া যাক কেমন হলো জার্মানি বিশ্বকাপ খেলোয়াড় তালিকা।
- আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের গোলরক্ষকের তালিকা
- আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় (ডিফেন্ডার)
- আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের মধ্যমাঠের খেলোয়াড় (মিডফিল্ডার)
- আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের আক্রমণভাগের খেলোয়াড় (ফরোয়ার্ড / অ্যাটাকার)
- আর্জেন্টিনা কিংবদান্তি খেলোয়াড় সম্পর্কে জানুন
- আর্জেন্টিনা সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর জেনে নিন
আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের গোলরক্ষকের তালিকা
আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের গোলরক্ষক মানেই সাহস, আত্মবিশ্বাস আর বড় ম্যাচে ঠাণ্ডা মাথার পারফরম্যান্স। আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের গোলরক্ষকের তালিকার মধ্যে প্রথমেই আছে জেরোনিমো রুলি, তিনি আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের একজন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। তিনি মূল একাদশে নিয়মিত না হলেও, দলে থাকলে সবসময়ই নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হন। জেরোনিমো রুলি জন্ম গ্রহন করেন ২০ মে ১৯৯২ সালে লা প্লাতা, আর্জেন্টিনা নামক স্থানে। তার বাজার মূল্য বর্তমান €৯.০০ মিলিয়ন।
অপরদিকে আছে ওয়াল্টার বেনিতেজ আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের একজন আধুনিক ধাঁচের গোলরক্ষক। তিনি মূলত তার দ্রুত রিফ্লেক্স, এক–এক পরিস্থিতিতে দক্ষতা এবং পায়ে বল খেলার সক্ষমতার জন্য পরিচিত। তিনি ১৯ জানুয়ারি ১৯৯৩ সালে জন্ম গ্রহন করেন, বর্তমানে তার বাজার মূল্য €৫.০০ মিলিয়ন। নিচে সকল গোলরক্ষকের তথ্য উল্লেখ করা হলো
| জার্সি | খেলোয়াড়ের নাম | পজিশন | বয়স | বাজারমূল্য |
|---|---|---|---|---|
| ১২ | জেরোনিমো রুলি | গোলকিপার | ৩৩ | €৯.০০ মিলিয়ন |
| ১ | ওয়াল্টার বেনিতেজ | গোলকিপার | ৩৩ | €৫.০০ মিলিয়ন |
| ২৩ | ডেমিয়ান তালাভেরা | গোলকিপার | ১৮ | – |
আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় (ডিফেন্ডার)
ক্রিস্টিয়ান রোমেরো মাত্র ২৭ বছর বয়সে তার বর্তমান বাজার মূল্য €৬০.০০ মিলিয়ন এই তালিকার সব চেয়ে দামি ডিফেন্ডার। আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের রক্ষণভাগের অন্যতম স্তম্ভ। তার আক্রমণাত্মক ডিফেন্সিং স্টাইল, শক্ত ট্যাকল এবং নেতৃত্বগুণের জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। মার্কোস সেনেসি আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের একজন নির্ভরযোগ্য সেন্টার-ব্যাক। তিনি তার ট্যাকটিক্যাল বুদ্ধিমত্তা, শক্ত অবস্থানজ্ঞান এবং বাঁপায়ের নিখুঁত পাসিংয়ের জন্য পরিচিত।
| জার্সি | খেলোয়াড়ের নাম | পজিশন | বয়স | বাজারমূল্য |
|---|---|---|---|---|
| ১৩ | ক্রিস্টিয়ান রোমেরো | সেন্টার-ব্যাক | ২৭ | €৬০.০০ মিলিয়ন |
| ৬ | মার্কোস সেনেসি | সেন্টার-ব্যাক | ২৮ | €২২.০০ মিলিয়ন |
| ২ | জুয়ান ফয়থ | সেন্টার-ব্যাক | ২৮ | €১৫.০০ মিলিয়ন |
| ৪ | কেভিন ম্যাক অ্যালিস্টার | সেন্টার-ব্যাক | ২৮ | €৯.০০ মিলিয়ন |
| ১৯ | নিকোলাস ওটামেন্ডি | সেন্টার-ব্যাক | ৩৭ | €১.০০ মিলিয়ন |
| ৩ | নিকোলাস টাগলিয়াফিকো | লেফট-ব্যাক | ৩৩ | €৫.০০ মিলিয়ন |
আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের মধ্যমাঠের খেলোয়াড় (মিডফিল্ডার)
আর্জেন্টিনা দলের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো তাদের মধ্যমাঠ । আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে এই বিভাগ তাই মধ্যমাঠ শক্ত না হলে পুরো দলই দুর্বল হয়ে পড়ে। মাক্সিমো পেরোনে আর্জেন্টিনা ফুটবলের উদীয়মান মধ্যমাঠের প্রতিভাদের একজন। তিনি মূলত একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার, যাকে ভবিষ্যতের জন্য আর্জেন্টিনার বড় সম্পদ হিসেবে ধরা হয়। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের মধ্যমাঠের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও বুদ্ধিমান খেলোয়াড়দের একজন। তিনি আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যে নিখুঁত সংযোগ তৈরি করেন এবং বড় ম্যাচে সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
| জার্সি | খেলোয়াড়ের নাম | পজিশন | বয়স | বাজারমূল্য |
|---|---|---|---|---|
| ১৪ | মাক্সিমো পেরোন | ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড | ২৩ | €২৫.০০ মিলিয়ন |
| ২০ | অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার | সেন্ট্রাল মিডফিল্ড | ২৭ | €৮৫.০০ মিলিয়ন |
| ৫ | ভ্যালেন্টিন বারকো | সেন্ট্রাল মিডফিল্ড | ২১ | €২৫.০০ মিলিয়ন |
| ৭ | রদ্রিগো দে পাউল | সেন্ট্রাল মিডফিল্ড | ৩১ | €১৫.০০ মিলিয়ন |
| ১৮ | নিকো পাজ | অ্যাটাকিং মিডফিল্ড | ২১ | €৬৫.০০ মিলিয়ন |
| ১৭ | এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া | অ্যাটাকিং মিডফিল্ড | ২৯ | €১৮.০০ মিলিয়ন |
| ১১ | জিওভানি লো সেলসো | অ্যাটাকিং মিডফিল্ড | ২৯ | €১৫.০০ মিলিয়ন |
আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের আক্রমণভাগের খেলোয়াড় (ফরোয়ার্ড / অ্যাটাকার)
আর্জেন্টিনা দলের আক্রমণভাগ মানেই গোল, গতি, সৃজনশীলতা ও অভিজ্ঞতার নিখুঁত মিশ্রণ। বড় ম্যাচে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা এই বিভাগের হাতেই বেশি থাকে। লিওনেল মেসি শুধু আর্জেন্টিনার নয়, ফুটবল ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। তার ড্রিবলিং, ভিশন, গোল ও নেতৃত্ব সব মিলিয়ে তিনি এক অনন্য প্রতিভা। নিকো গঞ্জালেস আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের একজন পরিশ্রমী ও গতিময় উইঙ্গার। আক্রমণে সরাসরি হুমকি তৈরি করা এবং রক্ষণে সাহায্য দুটো ভূমিকাতেই তিনি কার্যকর।
| জার্সি | খেলোয়াড়ের নাম | পজিশন | বয়স | বাজারমূল্য |
|---|---|---|---|---|
| ১৫ | নিকো গঞ্জালেস | লেফট উইঙ্গার | ২৭ | €২৪.০০ মিলিয়ন |
| ১৬ | থিয়াগো আলমাদা | লেফট উইঙ্গার | ২৪ | €২০.০০ মিলিয়ন |
| ১০ | লিওনেল মেসি | রাইট উইঙ্গার | ৩৮ | €১৫.০০ মিলিয়ন |
| ২৫ | জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নি | রাইট উইঙ্গার | ১৯ | €১২.০০ মিলিয়ন |
| ২২ | লাউতারো মার্টিনেজ | সেন্টার-ফরোয়ার্ড | ২৮ | €৮৫.০০ মিলিয়ন |
| ২৪ | জোয়াকিন পানিচেলি | সেন্টার-ফরোয়ার্ড | ২৩ | €২৫.০০ মিলিয়ন |
| ২১ | হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ | সেন্টার-ফরোয়ার্ড | ২৫ | €২০.০০ মিলিয়ন |
আরও পড়ুনঃ জার্মানি খেলোয়াড় তালিকা ২০২৬
আর্জেন্টিনা কিংবদান্তি খেলোয়াড় সম্পর্কে জানুন
আর্জেন্টিনা মানেই কিংবদন্তির দেশ। যুগে যুগে এমন কিছু খেলোয়াড় জন্মেছেন, যারা শুধু ট্রফি নয় নিজেদের জাদুকরী খেলায় ফুটবল ইতিহাসই বদলে দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছে ডিয়েগো ম্যারাডোনা,মেসি, গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা, মারিও কেম্পেস, আলফ্রেডো ডি স্তেফানো। চলুন তাদের সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
ডিয়েগো ম্যারাডোনা
ডিয়েগো ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনা ফুটবলের সবচেয়ে আবেগময় নাম। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার “হ্যান্ড অব গড” ও “গোল অব দ্য সেঞ্চুরি” আজও ফুটবল ইতিহাসের অংশ। ড্রিবলিং, নেতৃত্ব ও আগ্রাসী মানসিকতায় তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়।
লিওনেল মেসি
মেসি আধুনিক ফুটবলের সর্বশ্রেষ্ঠ কিংবদন্তিদের একজন। ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে তিনি আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করেন। শান্ত স্বভাব, অতুলনীয় ড্রিবলিং ও নিখুঁত ফিনিশিং সব মিলিয়ে তিনি সম্পূর্ণ খেলোয়াড়।
গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা
গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা ছিলেন এক ভয়ংকর গোলমেশিন। শক্তিশালী শট, হেডিং ও গোল করার ক্ষুধা তাকে আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সেরা স্ট্রাইকারদের একজন করেছে।
মারিও কেম্পেস
মারিও কেম্পেস ১৯৭৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক। ফাইনালে জোড়া গোল করে তিনি জাতীয় নায়কে পরিণত হন।
আলফ্রেডো ডি স্তেফানো
আলফ্রেডো ডি স্তেফানো আর্জেন্টিনায় জন্ম নেওয়া এমন এক কিংবদন্তি, যিনি ইউরোপীয় ফুটবলেও রাজত্ব করেছেন। সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের আলোচনায় তার নাম চিরকাল থাকবে।
আর্জেন্টিনা সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর জেনে নিন
প্রশ্নঃ আর্জেন্টিনা কোন কোন সালে বিশ্বকাপ জিতেছে?
উত্তরঃ
১৯৭৮ (আয়োজক দেশ: আর্জেন্টিনা)
১৯৮৬ (ডিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে)
২০২২ (লিওনেল মেসির নেতৃত্বে)
প্রশ্নঃআর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতা কে?
উত্তরঃ লিওনেল মেসি: ১১৫ গোল।
প্রশ্নঃআর্জেন্টিনা কি কখনো বিশ্বকাপের ফাইনালে হেরেছে?
১৯৯৮ ও ২০০২ বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২–১ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার পক্ষে একমাত্র গোলটি করেন ক্লাউদিও লোপেজ।
প্রশ্নঃআর্জেন্টিনা কতবার ইউরো জিতেছে?
আর্জেন্টিনা কখনোই ইউরো (উয়েফা ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ) জয় করেনি কারণ এটি একটি দক্ষিণ আমেরিকান দেশ। ইউরো টুর্নামেন্টে শুধুমাত্র ইউরোপীয় দেশগুলো অংশগ্রহণ করে।


