জার্মানি প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেয় ১৯৩৪ সালে এবং সে আসরে তৃতীয় স্থান অর্জন করে। এরপর থেকে তারা কখনোই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বাদ পড়েনি, যদিও সাম্প্রতিক দুটি আসরে ২০১৮ ও ২০২২ সালে ব্যতিক্রম দেখা গেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের নিয়ে আবারও নিজেদের শক্ত অবস্থান ফিরে পেতে চায় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ফুটবল ইতিহাসে জার্মানি মানেই শৃঙ্খলা, ট্যাকটিক্যাল বুদ্ধিমত্তা এবং জয়ের মানসিকতা। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফল জাতীয় দলগুলোর একটি হিসেবে জার্মানি বরাবরই প্রতিটি বড় টুর্নামেন্টে শিরোপার দাবিদার। ২০২৬ বিশ্বকাপ হবে উত্তর আমেরিকায় এবং দলসংখ্যা বাড়বে ৪৮-এ। এই আসরে জার্মানি আসবে এক নতুন রূপে, যেখানে অভিজ্ঞতা আর তরুণদের মিশ্রণই হবে মূল শক্তি। চলো খেলা টাইমের আজকের এই নিবন্ধে জেনে নেয়া যাক কেমন হলো জার্মানি বিশ্বকাপ খেলোয়াড় তালিকা।
জার্মানি ফুটবল দলের গোলরক্ষকের তালিকা
২৩ বছর বয়সী নোয়াহ আতুবোলু এই তালিকায় সবচেয়ে কম বয়সী কিন্তু সবচেয়ে বেশি বাজার মূল্য তারই। বাজার মূল্য ২০ মিলিয়ন ইউরো। ক্লাব ও জাতীয় দলে তাকে ভবিষ্যতের নাম্বার ওয়ান হিসেবে দেখা হচ্ছে। অপরদিকে ৩৫ বছর বয়সী অলিভার বাউমান এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়ার যার বাজার মূল্য ৩ মিলিয়ন ইউরো। নিচে সকল গোলরক্ষকের তথ্য উল্লেখ করা হলো
| নাম | পজিশন | বয়স | বাজার মূল্য |
|---|---|---|---|
| নোয়াহ আতুবোলু | গোলরক্ষক | ২৩ | €২০ মিলিয়ন |
| আলেক্সান্ডার নুবেল | গোলরক্ষক | ২৯ | €১২ মিলিয়ন |
| ফিন ডাহমেন | গোলরক্ষক | ২৭ | €১২ মিলিয়ন |
| অলিভার বাউমান | গোলরক্ষক | ৩৫ | €৩ মিলিয়ন |
জার্মানি ফুটবল দলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় (ডিফেন্ডার)
নিকো শ্লটারবেক বয়স মাত্র ২৬ বছর কিন্তু বাজার মূল্য ৫৫ মিলিয়ন ইউরো। এই তালিকার সবচেয়ে দামি ডিফেন্ডার। বাম পায়ের সেন্টার-ব্যাক হিসেবে তার বল বিল্ড-আপ, লং পাস এবং আগ্রাসী ডিফেন্ডিং জার্মানির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। মালিক থিয়াও, শ্লটারবেকের সঙ্গে জুটি গড়ার দৌড়ে অন্যতম শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। ডেভিড রাউম দলে আছেন আক্রমণাত্মক ফুলব্যাক হিসেবে পরিচিত।
| নাম | পজিশন | বয়স | বাজার মূল্য |
|---|---|---|---|
| নিকো শ্লটারবেক | সেন্টার-ব্যাক | ২৬ | €৫৫ মিলিয়ন |
| মালিক থিয়াও | সেন্টার-ব্যাক | ২৪ | €৪০ মিলিয়ন |
| জোনাথান তাহ | সেন্টার-ব্যাক | ২৯ | €৩০ মিলিয়ন |
| ওয়াল্ডেমার অ্যান্টন | সেন্টার-ব্যাক | ২৯ | €১৮ মিলিয়ন |
| ন্যাথানিয়েল ব্রাউন | লেফট-ব্যাক | ২২ | €৩৫ মিলিয়ন |
| ডেভিড রাউম | লেফট-ব্যাক | ২৭ | €২০ মিলিয়ন |
| রিডলে বাকু | রাইট-ব্যাক | ২৭ | €১২ মিলিয়ন |
জার্মানি ফুটবল দলের মধ্যমাঠের খেলোয়াড় (মিডফিল্ডার)
জার্মানির মধ্যমাঠে অভিজ্ঞতা ও তরুণ প্রতিভার সুন্দর মিশ্রণ আছে। পাভলোভিচ ভবিষ্যতের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড লিডার হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে। কিমিশ এখনো গেম কন্ট্রোল ও নেতৃত্বের প্রধান ভরসা। এদিকে এনমেচা ও ওয়েদ্রাওগো বক্স-টু-বক্স শক্তি ও গতি যোগ করছে। লিওন গোরেৎজকা অভিজ্ঞ রোটেশন অপশন হিসেবে কার্যকর। ২২ বছর বয়সী ভির্টজ পুরো মিডফিল্ড ও আক্রমণের মূল চালিকাশক্তি।
| নাম | পজিশন | বয়স | বাজার মূল্য |
|---|---|---|---|
| আলেক্সান্ডার পাভলোভিচ | ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড | ২১ | €৬৫ মিলিয়ন |
| ইয়োজুয়া কিমিশ | ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড | ৩০ | €৪০ মিলিয়ন |
| ফেলিক্স এনমেচা | সেন্ট্রাল মিডফিল্ড | ২৫ | €৪৫ মিলিয়ন |
| আসান ওয়েদ্রাওগো | সেন্ট্রাল মিডফিল্ড | ১৯ | €২৮ মিলিয়ন |
| লিওন গোরেৎজকা | সেন্ট্রাল মিডফিল্ড | ৩০ | €১৫ মিলিয়ন |
| ফ্লোরিয়ান ভির্টজ | অ্যাটাকিং মিডফিল্ড | ২২ | €১১০ মিলিয়ন |
আরও পড়ুনঃ হামজা চৌধুরীর মোট গোল কত ২০২৬
জার্মানি ফুটবল দলের আক্রমণভাগের খেলোয়াড় (ফরোয়ার্ড / অ্যাটাকার)
বরুসিয়া ডর্টমুন্ড ক্লাবের ২৩ বছর বয়সী করিম আদেয়েমি জার্মানির সবচেয়ে বিস্ফোরক উইঙ্গার এবং নিয়মিত স্টার্টার হওয়ার দাবিদার। কেভিন শাদে লেফট উইংয়ে ফিজিক্যাল শক্তি ও ডাইরেক্ট আক্রমণ যোগ করে। জেমি লেভেলিং রাইট উইংয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে স্কোয়াডে গভীরতা বাড়াচ্ছেন। ৩০ বছর বয়সী বায়ার্ন মিউনিখ স্টার লেরয় সানে এখনও অভিজ্ঞতা ও গেম চেঞ্জিং গতির বড় ভরসা। সের্জ নাব্রি আছে দ্বিতীয় স্ট্রাইকার বা উইং থেকে গোলের সেরা অপশন। এদিকে ২৩ বছর বয়সী নিক ভোল্টেমেডে ভবিষ্যতের নাম্বার নাইন হিসেবে সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকা।
| নাম | পজিশন | বয়স | বাজার মূল্য |
|---|---|---|---|
| কেভিন শাদে | লেফট উইঙ্গার | ২৪ | €৩৫ মিলিয়ন |
| করিম আদেয়েমি | রাইট উইঙ্গার | ২৩ | €৬০ মিলিয়ন |
| জেমি লেভেলিং | রাইট উইঙ্গার | ২৪ | €২৫ মিলিয়ন |
| লেরয় সানে | রাইট উইঙ্গার | ৩০ | €২৩ মিলিয়ন |
| সের্জ নাব্রি | সেকেন্ড স্ট্রাইকার | ৩০ | €২০ মিলিয়ন |
| নিক ভোল্টেমেড | সেন্টার-ফরোয়ার্ড | ২৩ | €৭০ মিলিয়ন |
| জোনাথান বুর্কার্ট | সেন্টার-ফরোয়ার্ড | ২৫ | €৩৫ মিলিয়ন |
জার্মানি দল নিয়ে কিছু প্রশ্নোত্তর
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফল জাতীয় দলগুলোর মধ্যে একটি হলো জার্মানি, এই দল নিয়ে মানুষের আগ্রহের কমতি নেই, নিয়ে কমন কিছু প্রশ্নের উত্তর উল্লেখ করা হলো –
প্রশ্নঃ জার্মানি কোন কোন সালে বিশ্বকাপ জিতেছে?
উত্তরঃ ১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০ এবং ২০১৪ সালে।
প্রশ্নঃ জার্মানি কতবার ইউরো জিতেছে?
উত্তরঃ জার্মানি ১৯৭২, ১৯৮০ ও ১৯৯৬ মোট ৩ বার ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
প্রশ্নঃ জার্মানির সর্বোচ্চ গোলদাতা কে?
উত্তরঃ ৭১ গোল করে জার্মানির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা – মিরোস্লাভ ক্লোসা।
প্রশ্নঃ জার্মানি কি কখনো বিশ্বকাপের ফাইনালে হেরেছে?
উত্তরঃ জার্মানি বিশ্বকাপ ফাইনালে মোট ৪ বার হেরেছে – ১৯৬৬, ১৯৮২, ১৯৮৬ ও ২০০২ সাল।

