ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ প্রথম চালু হয় ১৯৯২ সালে, আর সেই সময় থেকেই এটি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। ইংল্যান্ডের শীর্ষ ক্লাবগুলোকে নিয়ে শুরু হওয়া এই লিগ অল্প সময়ের মধ্যেই জনপ্রিয়তা, প্রতিযোগিতা এবং বাণিজ্যিক সাফল্যের দিক থেকে অন্য সব লিগকে ছাড়িয়ে যায়। প্রতি মৌসুমে শিরোপা দৌড়, টপ ফোরের লড়াই এবং রেলিগেশন এড়ানোর চাপ—সব মিলিয়ে প্রিমিয়ার লিগ মানেই অনিশ্চয়তা আর উত্তেজনার নাম।
ফুটবল ভক্তদের নজর এখন একটাই প্রশ্নের দিকে—কে হাসবে শেষ হাসি? ইতিহাদে কি ট্রফি থেকে যাবে, নাকি এমিরেটস বা অ্যানফিল্ডে যাবে নতুন রাজা? চলুন খেলা টাইমের আজকের এই ব্লগে আমরা ২০২৬ সালের প্রিমিয়ার লিগ পয়েন্ট টেবিলের আদ্যোপান্ত বিশ্লেষণ করব।
প্রিমিয়ার লিগ ২০২৫–২৬ মৌসুমের বর্তমান পয়েন্ট টেবিল
শীর্ষে আর্সেনাল দাপট দেখাচ্ছে—২৬ ম্যাচে ১৭ জয়, মাত্র ৩ হার, গোল পার্থক্য +৩২ এবং ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে তারা লিগের সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে উঠে এসেছে। মিকেল আর্তেতার দল এবারের মৌসুমে রক্ষণভাগে অসাধারণ, আক্রমণেও ধারালো। তারা শিরোপা দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে, এবং ফ্যানদের মধ্যে আশা জাগিয়েছে যে এবার হয়তো দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হবে।
| দল | ম্যাচ | জয় | ড্র | হার | গোল পার্থক্য | পয়েন্ট |
|---|---|---|---|---|---|---|
| আর্সেনাল | ২৬ | ১৭ | ৬ | ৩ | +৩২ | ৫৭ |
| ম্যানচেস্টার সিটি | ২৬ | ১৬ | ৫ | ৫ | +৩০ | ৫৩ |
| অ্যাস্টন ভিলা | ২৬ | ১৫ | ৫ | ৬ | +১০ | ৫০ |
| ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড | ২৬ | ১২ | ৯ | ৫ | +১০ | ৪৫ |
| চেলসি | ২৬ | ১২ | ৮ | ৬ | +১৭ | ৪৪ |
| লিভারপুল | ২৬ | ১২ | ৬ | ৮ | +৬ | ৪২ |
| ব্রেন্টফোর্ড | ২৬ | ১২ | ৪ | ১০ | +৫ | ৪০ |
| ইভারটন | ২৬ | ১০ | ৭ | ৯ | −১ | ৩৭ |
| বোর্নমাউথ | ২৬ | ৯ | ১০ | ৭ | −২ | ৩৭ |
| নিউক্যাসল ইউনাইটেড | ২৬ | ১০ | ৬ | ১০ | ০ | ৩৬ |
| সানডারল্যান্ড | ২৬ | ৯ | ৯ | ৮ | −৩ | ৩৬ |
| ফুলহাম | ২৬ | ১০ | ৪ | ১২ | −৫ | ৩৪ |
| ক্রিস্টাল প্যালেস | ২৬ | ৮ | ৮ | ১০ | −৪ | ৩২ |
| ব্রাইটন ও হব অ্যালবিয়ন | ২৬ | ৭ | ১০ | ৯ | ০ | ৩১ |
| লিডস ইউনাইটেড | ২৬ | ৭ | ৯ | ১০ | −৯ | ৩০ |
| টটেনহ্যাম হটস্পার | ২৬ | ৭ | ৮ | ১১ | −১ | ২৯ |
| নটিংহাম ফরেস্ট | ২৬ | ৭ | ৬ | ১৩ | −১৩ | ২৭ |
| ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড | ২৬ | ৬ | ৬ | ১৪ | −১৭ | ২৪ |
| বার্নলি | ২৬ | ৪ | ৬ | ১৬ | −২৩ | ১৮ |
| উল্ভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্স | ২৬ | ১ | ৬ | ১৯ | −৩২ | ৯ |
টপ ফোর ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লড়াই
প্রিমিয়ার লিগে টপ ফোরে থাকা মানেই পরের মৌসুমের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার টিকিট নিশ্চিত করা। আর্থিক দিক থেকে যেমন এটি ক্লাবের জন্য বড় সুযোগ, তেমনি মর্যাদা ও আকর্ষণের দিক থেকেও টপ ফোরের গুরুত্ব আলাদা। এ কারণেই শিরোপা লড়াইয়ের পাশাপাশি টপ ফোর রেসও পুরো মৌসুমজুড়ে ভক্তদের নজর কেড়ে রাখে।
সাধারণত শীর্ষ ছয় বা সাতটি দলের মধ্যেই এই লড়াই সীমাবদ্ধ থাকে, যেখানে এক বা দুই ম্যাচের ফল পুরো সমীকরণ বদলে দিতে পারে। কোনো দল টানা জয় পেলে দ্রুত টপ ফোরে ঢুকে পড়ে, আবার টানা পয়েন্ট হারালে মুহূর্তেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ স্পট হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই এই পর্যায়ে স্কোয়াডের গভীরতা, ইনজুরি ম্যানেজমেন্ট এবং বড় ম্যাচে পারফরম্যান্সই মূল পার্থক্য গড়ে দেয়।
গোল ডিফারেন্স কেন গুরুত্বপূর্ণ
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে শুধু পয়েন্টই সব কিছু নয়, গোল ডিফারেন্সও টেবিলের অবস্থান নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। যখন দুই বা তার বেশি দলের পয়েন্ট সমান হয়, তখন প্রথমেই দেখা হয় কার গোল ডিফারেন্স ভালো। অর্থাৎ কোন দল কত গোল করেছে এবং কত গোল হজম করেছে, তার পার্থক্যই এখানে মূল হিসাব।
মৌসুমের শেষ দিকে অনেক সময় দেখা যায়, শিরোপা দৌড়, টপ ফোর রেস কিংবা রেলিগেশন বাঁচানোর লড়াই একই পয়েন্টে এসে দাঁড়ায়। তখন একটি বাড়তি গোল বা বড় ব্যবধানে পাওয়া একটি জয় পুরো পয়েন্ট টেবিলের চিত্র বদলে দিতে পারে। এ কারণেই দলগুলো শুধু ম্যাচ জেতার দিকেই নয়, যতটা সম্ভব কম গোল হজম করা এবং বেশি গোল করার দিকেও গুরুত্ব দেয়।
রেলিগেশন জোনে বাঁচা–মরার লড়াই
প্রিমিয়ার লিগে রেলিগেশন জোনের লড়াই অনেক সময় শিরোপা দৌড়ের চেয়েও বেশি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। পয়েন্ট টেবিলের নিচের দিকে থাকা দলগুলোর জন্য প্রতিটি ম্যাচই কার্যত ফাইনাল, কারণ একটি জয় যেমন দলকে নিরাপদ অঞ্চলের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে, তেমনি একটি হার পুরো মৌসুমটাই ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়। এখানে হিসাব শুধু পয়েন্ট নয়, গোল ডিফারেন্স, মুখোমুখি ম্যাচের ফল এবং শেষ দিকের ফিক্সচার সবকিছুই বড় ভূমিকা রাখে।
সাধারণত টেবিলের ১৮, ১৯ ও ২০তম অবস্থানে থাকা দলগুলোই রেলিগেশন জোনে থাকে এবং মৌসুম শেষে তাদের চ্যাম্পিয়নশিপে নেমে যেতে হয়। এই পর্যায়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়, মানসিক দৃঢ়তা এবং চাপের মধ্যে ফল বের করার ক্ষমতাই পার্থক্য গড়ে দেয়। অনেক সময় দেখা যায়, কাগজে-কলমে দুর্বল দলগুলো শেষ দিকে টানা জয় তুলে নিয়ে টিকে যায়, আর শক্তিশালী স্কোয়াড থাকা সত্ত্বেও কিছু দল চাপ সামলাতে না পেরে রেলিগেট হয়ে যায়।
সংক্ষেপে বলা যায়, মৌসুমের শেষ কয়েক রাউন্ডে রেলিগেশন জোনের দলগুলোর ম্যাচ আলাদা গুরুত্ব পায়। সমর্থক, কোচ ও খেলোয়াড়—সবার জন্যই এই সময়টা থাকে বাঁচা–মরার লড়াইয়ের মতো, যেখানে একটি গোলই বদলে দিতে পারে পুরো ভবিষ্যৎ। প্রিমিয়ার লিগ ২০২৫–২৬ পয়েন্ট টেবিল এখনো পুরোপুরি খোলা। শিরোপা, ইউরোপিয়ান স্পট এবং রেলিগেশন—তিন স্তরেই লড়াই চলছে সমান তালে। এই কারণেই প্রিমিয়ার লিগকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক লিগ বলা হয়।
আরও পড়ুনঃ হামজা চৌধুরীর মোট গোল কত ২০২৬
প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর
প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহের কোনো কমতি নেই। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবল লিগ হিসেবে প্রতি মৌসুমেই এটি ভক্তদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল তৈরি করে। শিরোপা লড়াই থেকে শুরু করে রেলিগেশন, পয়েন্ট টেবিল, ইউরোপিয়ান টিকিট—সব কিছু নিয়েই আলোচনা থাকে বছরজুড়ে। সেই আগ্রহ থেকেই প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে কমন কিছু প্রশ্নের উত্তর নিচে সাজিয়ে উল্লেখ করা হলো –
প্রশ্নঃ প্রিমিয়ার লিগে মোট কতটি দল খেলে?
উত্তরঃ প্রিমিয়ার লিগে প্রতিটি মৌসুমে ২০টি দল খেলে।
প্রশ্নঃ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ প্রথম কবে চালু হয়?
উত্তরঃ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ প্রথম চালু হয় ১৯৯২ সালে।
প্রশ্নঃ প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ সফল দল কোনটি?
উত্তরঃ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সফল দল হলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
প্রশ্নঃ প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন কীভাবে নির্ধারিত হয়?
উত্তরঃ মৌসুম শেষে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দলই প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়।
প্রশ্নঃ প্রিমিয়ার লিগে একটি দল কতটি ম্যাচ খেলে?
উত্তরঃ প্রতিটি দল একটি মৌসুমে মোট ৩৮টি ম্যাচ খেলে।

