WPL বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় নারী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। আজ থেকে এই প্রতিবেদনে আমরা WPL ২০২৬ পয়েন্ট টেবিল, প্রতিটি দলের শক্তি, দুর্বলতা এবং প্লে-অফে যাওয়ার সমীকরণ নিয়ে আলোচনা করব। এই পেজটি নিয়মিত আপডেট করা হয়, তাই সর্বশেষ তথ্য পেতে এটি বুকমার্ক করে রাখুন।
- নারী প্রিমিয়ার লিগ ২০২৬ পয়েন্ট টেবিল (Daily Live Update)
- WPL ২০২৬ এর ফরম্যাট এবং পয়েন্ট সিস্টেম
- WPL ২০২৬ এর দল ভিত্তিক বিশ্লেষণ (Team Analysis)
- WPL ২০২৬ ভেন্যু এবং কন্ডিশন (Venue Impact on Point Table)
- WPL ২০২৬ প্লে-অফ সমীকরণ: কীভাবে ফাইনালিস্ট নির্ধারণ হবে?
- WPL ২০২৬ পয়েন্ট টেবিল – প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
নারী প্রিমিয়ার লিগ ২০২৬ পয়েন্ট টেবিল (Daily Live Update)
| পজিশন | দলের নাম | ম্যাচ | জয় | হার | পয়েন্ট | নেট রান রেট (NRR) |
| ১ | RCBW (রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর) | ২ | ২ | ০ | ৪ | +১.৯৬৪ |
| ২ | GGTW (গুজরাট জায়ান্টস) | ২ | ২ | ০ | ৪ | +০.৩৫০ |
| ৩ | MIW (মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স) | ২ | ১ | ১ | ২ | +১.১৭৫ |
| ৪ | DCW (দিল্লি ক্যাপিটালস) | ২ | ০ | ২ | ০ | -১.৩৫০ |
| ৫ | UPW (ইউপি ওয়ারিয়র্স) | ২ | ০ | ২ | ০ | -২.৪৪৩ |
WPL ২০২৬ এর ফরম্যাট এবং পয়েন্ট সিস্টেম
প্রতিটি ম্যাচ জয়ের জন্য একটি দল ২ পয়েন্ট পাবে। যদি কোনো ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয় বা ড্র হয় (সুপার ওভারের আগে), তবে উভয় দল ১ পয়েন্ট করে পাবে। যদি দুটি দলের পয়েন্ট সমান হয়, তবে নেট রান রেট দেখা হবে। রান রেট বের করার সূত্র হলো:
NRR = {(Total Runs Scored)/(Total Overs Faced)} – {(Total Runs Conceded)/(Total Overs Bowled)}।
WPL ২০২৬ এর দল ভিত্তিক বিশ্লেষণ (Team Analysis)
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স (Mumbai Indians Women)
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স WPL ইতিহাসের অন্যতম সফল দল। হারমানপ্রীত কৌরের নেতৃত্বে এই দলটি শুরু থেকেই তাদের আধিপত্য বজায় রেখেছে। তাদের ব্যাটিং লাইনআপের মূল শক্তি হলো টপ অর্ডার। হেইলি ম্যাথিউস এবং যস্তিকা ভাটিয়ার ওপেনিং জুটি প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে। মিডল অর্ডারে হারমানপ্রীত কৌর এবং ন্যাট সিভার-ব্রান্টের অভিজ্ঞতা দলকে বড় স্কোর গড়তে সাহায্য করে। মুম্বাইয়ের বোলিং ইউনিট বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। বিশেষ করে ইসাবেল ওং এবং সাইকা ইশাকের স্পিন ও পেস কম্বিনেশন যেকোনো ব্যাটিং লাইনআপকে ধসিয়ে দিতে পারে। মুম্বাই সাধারণত লিগ পর্বের শুরু থেকেই জয়ের ধারা বজায় রাখে, যা তাদের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ ২-এর মধ্যে থাকতে সাহায্য করে।
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর (RCB Women)
আরসিবি মানেই এক বিশাল ফ্যানবেস এবং তারকাখচিত দল। স্মৃতি মান্ধানার নেতৃত্বে গত আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এবার তারা আরও আত্মবিশ্বাসী। আরসিবি-র স্কোয়াডে রয়েছেন এলিস পেরি এবং সোফি ডিভাইন। তারা দুজনেই একক প্রচেষ্টায় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। বিশেষ করে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের ছোট বাউন্ডারিতে তাদের ছক্কার বৃষ্টি দর্শকদের বাড়তি আনন্দ দেয়। শ্রেয়াঙ্কা পাতিলের মতো তরুণ স্পিনাররা মাঝের ওভারগুলোতে রান আটকে রাখতে দক্ষ। আরসিবির প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। পয়েন্ট টেবিলের মাঝপথে তারা অনেক সময় খেই হারিয়ে ফেলে, যা ২০২৬-এ কাটিয়ে উঠতে চাইবে তারা।
দিল্লি ক্যাপিটালস (Delhi Capitals Women)
দিল্লি ক্যাপিটালস এমন একটি দল যারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ক্রিকেট খেলে। মেগ ল্যানিংয়ের অবসরের পর জেমিমাহ রদ্রিগেজের নেতৃত্বে দলটি নতুন উদ্যমে মাঠে নামছে। শেফালি ভার্মার বিধ্বংসী ব্যাটিং এবং মারিজান ক্যাপের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দিল্লির প্রাণ। তাদের ফিল্ডিং ইউনিট টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত। রাধা যাদব এবং শিখা পান্ডের মতো ভারতীয় বোলাররা দিল্লির মূল শক্তি। তারা কৃপণ বোলিং করে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে ওস্তাদ। দিল্লি সাধারণত নেট রান রেটের (NRR) দিকে বিশেষ নজর দেয়, যা পয়েন্ট টেবিলের টাই-ব্রেকিং পরিস্থিতিতে তাদের এগিয়ে রাখে।
ইউপি ওয়ারিয়র্স (UP Warriorz)
অ্যালিসা হিলির নেতৃত্বে ইউপি ওয়ারিয়র্স বরাবরই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলে থাকে। তারা বড় বড় লক্ষ্য তাড়া করতে বিশেষভাবে পারদর্শী। গ্রেস হ্যারিস এবং অ্যালিসা হিলি এই দুজন বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পাওয়ার হিটার। তাদের দিনে যেকোনো বোলার অসহায় হয়ে পড়ে। সোফি একলেস্টোন, যিনি বিশ্বের এক নম্বর টি-টোয়েন্টি বোলার, তাদের ট্রাম্প কার্ড। ভারতের স্পিন সহায়ক উইকেটে তিনি পয়েন্ট টেবিলে ব্যবধান গড়ে দেন। তাদের ভারতীয় ব্যাটিং কোর কিছুটা অনভিজ্ঞ, যা বড় ম্যাচে অনেক সময় ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
গুজরাট জায়ান্টস (Gujarat Giants)
গুজরাট জায়ান্টস গত দুই সিজনে আশানুরূপ ফল করতে না পারলেও ২০২৬-এর নিলামে তারা সবথেকে স্মার্ট দল গঠন করেছে। তারা এবার স্কোয়াডে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। বেথ মুনির নেতৃত্বে তারা নতুন করে শুরু করতে চায়। লিয়া টাহুহু এবং অ্যাশলে গার্ডনারের মতো অলরাউন্ডাররা দলে ভারসাম্য এনেছেন। গুজরাট দলটির বড় গুণ হলো তারা শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করে। পয়েন্ট টেবিলের তলানি থেকে উঠে এসে চমক দেখানোর ক্ষমতা তাদের আছে।
WPL ২০২৬ ভেন্যু এবং কন্ডিশন (Venue Impact on Point Table)
পয়েন্ট টেবিলে বড় প্রভাব ফেলে মাঠের কন্ডিশন। ২০২৬ সালের ম্যাচগুলো ভারতের প্রধান ক্রিকেট স্টেডিয়ামগুলোতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে:
এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম, বেঙ্গালুরু: এখানে রান বেশি হয়, তাই ব্যাটাররা পয়েন্ট বাড়াতে সাহায্য করে।
অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম, দিল্লি: স্পিনাররা এখানে সুবিধা পায়, যা বোলারদের দাপট বাড়িয়ে দেয়।
WPL ২০২৬ প্লে-অফ সমীকরণ: কীভাবে ফাইনালিস্ট নির্ধারণ হবে?
WPL-এর নিয়ম অনুযায়ী পয়েন্ট টেবিলের এক নম্বর দল সরাসরি ফাইনালে চলে যায়। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলো একে অপরের সাথে ‘এলিমিনেটর’ ম্যাচ খেলে। এলিমিনেটর জয়ী দল ফাইনালের টিকিট পায়। এই জটিল সমীকরণটি পয়েন্ট টেবিলকে আরও রোমাঞ্চকর করে তোলে।
WPL ২০২৬ পয়েন্ট টেবিল – প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
-
প্রশ্নঃ WPL ২০২৬ এ কয়টি দল খেলছে?
উত্তরঃ মোট ৫টি দল অংশ নিচ্ছে।
-
প্রশ্নঃ WPL ২০২৬ এ বাংলাদেশের কোন প্লেয়ার খেলছেন?
উত্তরঃ কেউ খেলছে না
-
প্রশ্নঃ বিগত WPL চ্যাম্পিয়ান কোন দল?
উত্তরঃ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর (RCB Women)
আরও পড়ুন: বিপিএল ২০২৬ সর্বোচ্চ রান কার জানুন


